মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে "চালাবে", যা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযানের পর দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিবৃতিটি দেওয়া হয়, যেখানে ডেল্টা ফোর্সের একটি অভিযানে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার একটি গোপন আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়।
মাদুরোর অপসারণের পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট, তবে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছিল, মাদক পাচার মোকাবেলা এবং ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ করে। এই পদক্ষেপগুলি মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন একটি সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের অভিযানের জল্পনা উস্কে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা বহু বছর ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা চরম মুদ্রাস্ফীতি, প্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব এবং ব্যাপক অভিবাসন দ্বারা চিহ্নিত। ২০১৩ সালে হুগো শ্যাভেজের উত্তরসূরি মাদুরো, কর্তৃত্ববাদ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন, যার ফলে আন্তর্জাতিক নিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ থেকে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর সরকারকে অবৈধ বলে মনে করে আসছে এবং বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
লাতিন আমেরিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে, বিশেষ করে ঠান্ডা যুদ্ধের সময়, যখন তারা কমিউনিস্ট-বিরোধী শাসনকে সমর্থন করত এবং বামপন্থী সরকারগুলোর বিরোধিতা করত। এই ইতিহাস এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের বিবৃতির তাৎপর্য এখনও উন্মোচিত হচ্ছে। ভেনেজুয়েলাকে "চালানো" বলতে কী বোঝানো হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এর মধ্যে নতুন সরকারে উত্তরণ তত্ত্বাবধান করা থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান পর্যন্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে সেই দেশগুলো থেকে সমালোচনার সৃষ্টি হতে পারে যারা এটিকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং মার্কিন ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার হিসেবে দেখছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, অনেক দেশ সংকটের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত, তবে এর গতিপথ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment